সন্দ্বীপের মানুষও সভ্য নাগরিক সুবিধা পাওয়ার দাবী রাখে!

photo of brown leaves on the water

সন্দ্বীপের মানুষ কখন পাবে সভ্য নাগরিক সুবিধা? ইউরোপীয়দের লেখা ইতিহাস অনুযায়ী সন্দ্বীপে প্রায় তিন হাজার বছরের বেশি সময় ধরে লোক বসতি বিদ্যমান। নোয়াখালীর আগে এখানে জনবসতি গড়ে উঠেছে। সন্দ্বীপের লবণশিল্প, জাহাজ নির্মাণ কারখানা ও বস্ত্রশিল্প পৃথিবীখ্যাত ছিল। সস্তায় শক্ত মজবুত জাহাজ নির্মানের কারণে জনপ্রিয় ছিলো বলে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সন্দ্বীপ থেকে জাহাজ রপ্তানি করা হতো।

১৮৮০ সালের পূর্ব পর্যন্ত সন্দ্বীপ চট্টগ্রাম জেলার অন্তর্ভুক্ত থাকলেও পরবর্তীতে একে নোয়াখালী জেলার অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ১৯৫৪ সালে আবারও চট্টগ্রাম জেলার অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

লোকমুখে শোনা যায়, সন্দ্বীপে ১২টি পুর এর অস্থিত্ব ছিল। বর্তমানে ৫টি পুর বিদ্যমান: হরিশপুর, রহমতপুর, আজিমপুর, সন্তোষপুর, মুছাপুর। যেসব পুর সাগর গর্ভে হারিয়ে গেছে সেগুলো হল: সুধারামপুর, মোহাম্মদপুর, সুলতানপুর, মোক্তারপুর, সৌরভপুর, ইজ্জতপুর ও শফিপুর।

বৃটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম ব্যক্তিত্ব, বীর বিক্রম, বীর প্রতীক, রাজনীতিবিদ, কবি, লেখকের জন্ম হয়েছে এই সন্দ্বীপে।

মূল ভূখণ্ড থেকে আলাদা হবার কারণে সন্দ্বীপ সবসময় বঞ্চিত থেকেছে। নাগরিক সুবিধা যেটা যেই সময়ে পাওয়ার সেটা তৎক্ষণাৎ না পেয়ে বিলম্বে পেয়েছে।

২০১৮ সালের ১৫ নভেম্বর সর্বপ্রথম জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সুবিধা পায় সন্দ্বীপবাসী। বিদ্যুত পেয়ে এই দ্বীপের মানুষ স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে। ফলে দিন দিন বদলে যেতে শুরু করেছে এই জনপদ।

দ্বীপ থেকে মূল ভুখণ্ডে যাতায়াতের জন্য রয়েছে বি.আই.ডব্লিউ.টি সি. এর ২টি স্টীমার ঘাট (যার একটি প্রাকৃতিক পরিবর্তনের কারণে বর্তমানে বন্ধ রয়েছে) এবং ৫টি জেলা পরিষদ ফেরীঘাট।

সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয় গুপ্তছড়া – কুমিরা ঘাট। স্টীমার, সার্ভিস ও স্পীডবোটে যাতায়াতের ব্যবস্থা রয়েছে এই ঘাটে। সেই সাথে রয়েছে ভোগান্তিও।

সন্দ্বীপের মানুষও সভ্য নাগরিক সুবিধা পাওয়ার দাবী রাখে!
সন্দ্বীপের পাশে টিকেটের জন্য লম্বা লাইন। স্পীড বোট আসতে দেরি হবার কারণে টিকেট দেয়া বন্ধ রেখেছে। যা সম্পূর্ন অপ্রয়োজনীয়। দেড় দুইঘন্টা মানুষ দাঁড়িয়ে থাকছে ১৫ মিনিটের যাত্রার টিকেটের জন্য। মানুষ শত্রুকেও বসতে দেয়!

স্পীডবোটের ভাড়া বর্তমানে ৩০০ টাকা, কিছুদিন আগে ঘাটের ইজারাদার এই ঘোষণা দেন। মাস দুয়েক আগে ২৫০ টাকার ভাড়া ৩০০ টাকা করা হলেও সন্দ্বীপের যাত্রীদের দাবীর মুখে সেই ভাড়া ২৫০ এ রাখলেও দুমাস না যেতেই ঘাটের ইজারাদার ভাড়া বাড়িয়ে ৩০০ টাকা করেন।

যাত্রীদের দাবী ১৫ মিনিটের এই যাত্রার ভাড়া সর্বোচ্চ ১৫০ টাকা হতে পারে।

শুধু বাড়তি ভাড়া এই রুটের সমস্যা না। বাড়তি ভাড়া দিয়ে পর্যাপ্ত সুবিধা না পাওয়াও আছে। ঘাটে কর্মরত লোকজনের আচরণ খুব অপেশাদার। প্রাকৃতিক দূর্যোগের কারণে নৌপথের সময়সূচী এদিক সেদিক হতে পারে। তাই বলে ঘাটে অবস্থানরত নারী, শিশু, বৃদ্ধ লোকজন কেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকবে? পূর্বে বসার ব্যবস্থা না থাকলেও সম্প্রতি ২০০ চেয়ারের ব্যবস্থা করা হয়েছে সেই সাথে শহরে দেয়া হয়েছে টিকেট কাউন্টার। কিন্তু এটা কোন সাস্টেইনেবল সল্যুশন নয়।

ঘাট থাকবে উন্মুক্ত। একের অধিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান থাকবে। যাত্রী যার যার অর্থনৈতিক অবস্থার উপর নির্ভর করে যাতায়াতের বাহন পছন্দ করবে।

সব কিছু একপাশে রেখে যে কথাটা বলা উচিৎ সেটা হলো ‘সন্দ্বীপের মানুষও সভ্য নাগরিক সুবিধা পাওয়ার দাবী রাখে’!

Leave a Reply

Your email address will not be published.